পুলিশের ইউনিফর্মে ফিরছে নীল-অলিভ রংসংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন জমার শেষ দিন আজগাজায় যুদ্ধবিরতিতে অচলাবস্থাসাতসকালে ভূমিকম্পে কাঁপল দেশরাজধানীতে বাস সংকট, জনদুর্ভোগ
No icon

এসএসসি পরীক্ষায় বসছে সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বসছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী। আজ মঙ্গলবার বাংলা প্রথমপত্রের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। আর দাখিল পরীক্ষা শুরু হচ্ছে কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ বিষয় দিয়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।সূচি অনুযায়ী, এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ২০ মে পর্যন্ত। এরপর ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। দাখিলের তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ২৪ মে পর্যন্ত। আর ৭ থেকে ১৪ জুনের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হবে পরীক্ষা। পরে ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩১৮ জন। আর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিলে অংশ নিচ্ছে তিন লাখ তিন হাজার ২৮৬ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। সারাদেশে ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তিন হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে। এ বছর মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৭১ হাজার ৬২৬।

পরীক্ষার কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি বিষয়ে প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) এবং পরে সৃজনশীল বা রচনামূলক অংশ হবে; তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয় ছাড়া। দুই অংশের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। এমসিকিউ অংশের জন্য ৩০ মিনিট এবং সৃজনশীল অংশের জন্য দুই ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে প্রবেশপত্র। পরীক্ষা চলাকালে মোবাইল ফোন বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরীক্ষায় শুধু সাধারণ নন-প্রোগ্রামেবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে। নিবন্ধনপত্রে উল্লেখিত বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে অংশ নেওয়া যাবে না। বহুনির্বাচনী, সৃজনশীল ও ব্যবহারিক প্রতিটি অংশে আলাদাভাবে পাস করতে হবে; কোনো এক অংশে অকৃতকার্য হলে পুরো বিষয়েই অকৃতকার্য হিসেবে গণ্য করা হবে।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কেন্দ্রগুলো সরাসরি মনিটরিং করা হবে। প্রশ্ন ফাঁস ও ডিজিটাল অনিয়ম ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।মন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষা পরিচালনায় জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি সমন্বিত মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। নকল ও অনিয়ম প্রতিরোধে আইন সংশোধনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যাতে ডিজিটাল অপরাধকে শাস্তির আওতায় আনা যায়।সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার্থীবান্ধব হল নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, জনবান্ধব সরকার শিক্ষার্থীদের মন থেকে পরীক্ষা ভীতি নামক শব্দটি দূর করতে চায়।