বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় এবার দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ধীরগতি। অধিকাংশ লিড এজেন্সি এখনও মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের জন্য আবাসন চুক্তি সম্পন্ন করতে না পারায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব সরকার। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় হজ কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে তাগিদ দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই হজযাত্রীদের জন্য মক্কা ও মদিনায় বাড়ি ভাড়া চুক্তি চূড়ান্ত করতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে লিড এজেন্সিগুলোর কাছে পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনা সৌদি সরকারের নির্ধারিত টাইমলাইন মেনেই সম্পন্ন করতে হবে। হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাড়ি ভাড়ার কার্যক্রম শেষ করা বাধ্যতামূলক।এর আগে ১৫ জানুয়ারি সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এক ভার্চুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশি এজেন্সিগুলোর কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বাড়ি ভাড়ার অগ্রগতি আশানুরূপ নয় এবং সময়সীমা কোনোভাবেই বাড়ানো হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো এজেন্সি চুক্তি সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে তাদের অবশিষ্ট হজযাত্রীর জন্য তাঁবু বরাদ্দ ও সার্ভিস প্যাকেজ বাতিল হয়ে যাবে এই সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৬ জানুয়ারি রাতে নুসুক মাসার প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী ৩০টি লিড এজেন্সির মধ্যে মক্কায় মাত্র ৭ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং মদিনায় ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন হয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো ১১টি লিড এজেন্সি এখনও কোনো স্থানেই বাড়ি ভাড়ার কার্যক্রম শুরু করেনি, যা সার্বিক হজ প্রস্তুতিকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।এ প্রেক্ষাপটে সব লিড এজেন্সিকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে- সৌদি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই আবাসন চুক্তি শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে বাড়ি ভাড়া, পরিবহন চুক্তি, কোরবানি ব্যবস্থাপনাসহ সৌদি পর্বের অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে এজেন্সির সৌদি আরবের আইবিএএন নম্বরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সময়মতো এসব কার্যক্রম সম্পন্ন না হলে কোনো হজযাত্রীর যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়লে এর পুরো দায় সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকেই বহন করতে হবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো প্রস্তুতি শেষ না হলে হাজারো হজযাত্রী মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন। তাই দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এজেন্সিগুলোর কার্যক্রমে গতি আনা অত্যন্ত জরুরি। সৌদি সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করাই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে হজ এজেন্সিসমূহের অ্যাসোসিয়েশন হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার বলেন, কিছু কিছু এজেন্সি এরই মধ্যে আবাসন চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। অনেকই বাকি আছে, আশা করি আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়ে যাবে।এদিকে হজযাত্রী পরিবহনের প্রস্তুতিও দ্রুত নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এজেন্সিগুলোর দেওয়া বিমান টিকিটের চাহিদা দ্রুত নিশ্চিত করার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের কাছে পৃথক চিঠি পাঠানো হয়েছে।চিঠিতে বলা হয়েছে, অনুমোদিত ফ্লাইট শিডিউল ইতোমধ্যে হজ পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে। এখন এজেন্সিগুলোর দাখিল করা টিকিট রিকোয়েস্ট দ্রুত নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সৌদি নির্দেশনা অনুযায়ী একই সার্ভিস কোম্পানির হজযাত্রীদের একই ফ্লাইটে সৌদি আরবে যেতে হবে। পাশাপাশি প্রি-হজ ফ্লাইটের বিভিন্ন ধাপে নির্ধারিত অনুপাতে টিকিট ইস্যুর নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।এয়ারলাইনসগুলোকে আগামী ১৯ জানুয়ারির মধ্যেই এজেন্সিগুলোর টিকিট চাহিদা নিশ্চিত করে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে মদিনায় বাড়ি ভাড়া চুক্তি সম্পন্ন করতে টিকিট নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এবার বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী হজ পালন করতে পারবেন।