নতুন এমপিদের শপথ সকাল ১০টায়১১তম প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমানশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেকোনো অনিয়মে দায়ী হবেন সভাপতি ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানকারওয়ান বাজার ও পুরান ঢাকায় অগ্নিকাণ্ডশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রমজানের ছুটি নিয়ে সিদ্ধান্তহীন সরকার
No icon

১১তম প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান

দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ মঙ্গলবার শপথ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে তার মন্ত্রিসভাও শপথ নেবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। আজ বিকালে অনুষ্ঠেয় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তাদেরকে শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগে সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। শপথ নিলে তারেক রহমান হবেন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী। তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত থাকার পর দেশে ফিরে এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের অংশ হতে যাচ্ছেন। ৬০ বছর বয়সে ক্ষমতার শীর্ষপদে আসার কারণে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রেকর্ড গড়বেন।পিতা জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বগুড়া কমিটির সদস্য হিসেবে যোগদান করে তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেওয়ার পূর্বেই তারেক রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি তার মা খালেদা জিয়ার সহচর হিসেবে সারা দেশের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তারেক রহমান বেগম জিয়ার প্রচার কার্যক্রমের পাশাপাশি পৃথক পরিকল্পনায় দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচার চালান। নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে তার সক্রিয় আগমন ঘটে।

২০০২ সালে দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন তারেক রহমান।দলের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়োগ লাভের পরপরই তারেক রহমান দেশব্যাপী দলের মাঠপর্যায়ের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেন। ২০০৯ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তারেক রহমান সংগঠনের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন এবং ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ২০২৬ সালের শুরুতেই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সম্মতিক্রমে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তারেক রহমান।বাংলাদেশের সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ৪৬ বছর বয়সে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার সময় তার বয়স ছিল ৫২ বছর। পরবর্তী সময়ে নব্বইয়ের দশকে সংসদীয় গণতন্ত্র ফেরার পর বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে প্রথমবার যখন প্রধানমন্ত্রী হন, তখন তার বয়স ছিল ৪৬ বছর। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন তার বয়স ছিল ৪৯ বছর। সে তুলনায় তারেক রহমানের ৬০ বছর বয়সে প্রথমবার সরকারপ্রধান হওয়াকে বিশ্লেষকরা দেখছেন এক পরিণত রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অভিষেক হিসেবে।

বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিলেন তারেক রহমান : এদিকে বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। আজ ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। গতকাল বিকালে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়েছেন, রেখেছেন ঢাকা-১৭ আসন। তার এ সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছে নির্বাচন কমিশন।আইন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিনটি আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে বিজয়ী হলে তিনি কেবল একটি আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারেন। বাকিগুলো ছেড়ে দিতে হয়। সেগুলোতে নিয়ম অনুযায়ী উপনির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। পরের দিন শুক্রবার রাতে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭টিতে বিজয়ী ব্যক্তিদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।