আজ মহান মে দিবস ভোরে তুমুল বৃষ্টি, রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় পানিঢাকায় টানা বৃষ্টি, আভাস কালবৈশাখীর : যা জানাল আবহাওয়া অফিসপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎঅতিবৃষ্টি পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন জেলায় বন্যা
No icon

আজ মহান মে দিবস

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কুলি মশিউরের দুনিয়া এখন নিদহীন। বিদেশ ফেরত একজন মাঝবয়সী পুরুষের পক্ষে অনেক কষ্টের কাজটি বেদনা নিয়েই মেনে নেন। হতাশার শুরু দুই বছর আগে দুবাইয়ের মরুভূমিতে। মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি দেওয়ার প্রথম পাঁচ মাস এক রকম ভালো-মন্দে কাটছিল। ষষ্ঠ মাস আর চলে না। কোম্পানির কাজ নেই। ঠিকা কাজের শ্রমিক মশিউর বেকার হয়ে পড়েন। এক মাস আয়হীন মরুজীবন কাটিয়ে ঋণের দায় মাথায় নিয়ে অগত্যা দেশে ফেরেন তিনি।বিদেশ যাওয়ার খরচ ৩ লাখ টাকার অর্ধেকটাই ঋণের জোগান। সেই ঋণের ১২ আনা এখনও পরিশোধ বাকি। বিনা পুঁজিতে করার মতো কিছু করারও কায়দা নেই। নিরুপায় মশিউর রাজ্যের আড়ষ্টতা নিয়ে টুকরি হাতে রাস্তায় নেমে পড়েন। বাজার করতে আসা খরিদ্দারের সদাইপাতি গাড়িতে অথবা বাসায় পৌছে দেন। গাজীপুর থেকে প্রতিদিন সকালে ট্রেনে নামেন তেজগাঁও স্টেশনে। বিকেল হতে ফিরতি ট্রেন ধরেন বাড়ির। জানালেন, টুকরির এক দিনের ভাড়া বাবদ মহাজনকে দিতে হয় ৩০ টাকা। দিনে দুইবার টয়লেটের ফি বাবদ ২০ টাকা। দুপুরের খাওয়া ৫০ টাকার মধ্যে সারেন। ঋণের কিস্তি পরিশোধেই আয়ের প্রায় সব চলে যায়।

মশিউরের মতো লাখো শ্রমজীবী মানুষের এমন অবস্থার মধ্যে আজ শুক্রবার মহান মে দিবস পালিত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়হীন অতিরিক্ত শ্রম ও কম মজুরিতে তীব্র শোষণের ফলে গড়ে ওঠা শ্রমিকদের বিক্ষুব্ধ আন্দোলনের পটভূমিতে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা বিশ্রাম ও আট ঘণ্টা বিনোদন এবং ন্যায্য মজুরির দাবিতে ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে পুলিশের বেপরোয়া গুলিতে অনেক শ্রমিক হতাহত হন। ১৮৯০ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক প্যারিস কংগ্রেসে বিশ্বব্যাপী মে মাসের ১ তারিখ মে দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশেও দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়ে আসছে।দেশে এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। মূল্যস্ফীতি বাড়লে সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েন নিম্ন আয়ের মানুষ। প্রতি মাসে শ্রমিকের মজুরি যে হারে বাড়ে, তার চেয়ে বেশি হারে বাড়ে বাজারে জিনিসপত্রের দাম। এ কারণে শ্রমিকের মজুরি কখনও মূল্যস্ফীতির নাগাল পায় না। আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয়ের বাড়তিটুকু চলে ধার-দেনায়। বিবিএসের সর্বশেষ ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) ও মজুরি হার সূচক (ডব্লিউআরআই) প্রতিবেদনের উপাত্ত বলছে, গত মার্চ মাসে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। অথচ মাসটিতে জাতীয় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। দরিদ্র মানুষের জন্য মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেশি। কেননা, চালসহ কয়েকটি নিত্যপণ্য কিনতেই তাদের আয় শেষ হয়ে যায়।