আজ বিশ্বে বায়ুদূষণে শীর্ষে বাগদাদ, ঢাকার অবস্থান কত?দুপুরের মধ্যে ১০ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কাইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘লাইফ সাপোর্টে’ আছে: ট্রাম্পতিনটি প্রশাসনিক জোনে ভাগ হবে তিতাস গ্যাসভালো ঈদযাত্রার চেষ্টায় মন্ত্রণালয়: সড়কমন্ত্রী
No icon

তিনটি প্রশাসনিক জোনে ভাগ হবে তিতাস গ্যাস

গ্যাসের নিম্নচাপ, অবৈধ সংযোগ, পাইপলাইনের লিকেজ, দীর্ঘসূত্রতা আর সীমাহীন গ্রাহক ভোগান্তিতে বছরের পর বছর ধরে আস্থার সংকটে থাকা দেশের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস বিতরণ প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে (তিতাস) এবার তিনটি প্রশাসনিক জোনে ভাগ করার উদ্যোগে নতুন গতি এসেছে। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ২৮ লাখ গ্রাহকের সেবা একক প্রশাসনিক কাঠামোয় কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ায় সরকার বিকেন্দ্রীকরণের পথে হাঁটছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি তিতাসকে তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করার সুপারিশ করেছে, যা ইতোমধ্যে পেট্রোবাংলায় পাঠানো হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু বাস্তবায়নে ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জ্বালানি সচিবও।তিতাসকে তিনটি প্রশাসনিক জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। সেই কমিটি তিতাস গ্যাসকে তিনটি প্রশাসনিক জোনে ভাগ করার সুপারিশ করে। জ;ালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সেটা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দিয়ে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনে (পেট্রোবাংলা) পাঠানো হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে। তবে দ্রুত বাস্তবায়ন কাজ না হওয়ায় জ;ালানি সচিব ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক আমাদের সময়কে বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত একটি কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের নির্দেশনা রয়েছে। সেটা নিয়ে তিতাস কোম্পানিতে কাজ চলছে।অবৈধ সংযোগ, গ্যাস সংকট ও আর্থিক চাপের মুখে বড় সংস্কারের পথে সরকার। সূত্র বলছে, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের বিশাল বিতরণ এলাকা একক ব্যবস্থাপনায় কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই অঞ্চলভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলে শিল্প, আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের সেবা দ্রুত নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।তিতাস গ্যাস কোম্পানি দেশের সর্ববৃহৎ গ্যাস বিতরণ কোম্পানি। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের সব জেলা, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদীসহ বিশাল এলাকায় তিতাস গ্যাস বিতরণ করে থাকে। তবে এসব অঞ্চলের বিশাল গ্রাহকের যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে ছোটখাটো বিষয়ে ফাইলও কোম্পানিটির প্রধান কার্যালয় রাজধানীর কারওয়ানবাজার অফিসে আসতে হয়। ফলে গ্রাহকের সিদ্ধান্ত পেতে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। যার কারণে গ্রাহক সেবা জনবান্ধব বা অর্থনৈতিকভাবে কল্যাণকর হয়ে গড়ে উঠেনি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও তিতাসের সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিন ভাগে বিভক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল।

তবে সেই সময় গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ এলাকায় তিনটি ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর বা (ডিএমডি) পদ তৈরি করে ভাগ করা হলেও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ না হওয়ায় গ্রাহকদের সুফল মেলেনি। তবে বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে তিতাসকে তিন ভাগে ভাগ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্তি থাকায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত একটি কমিটি তিতাসকে তিনটি প্রশাসনিক এলাকায় বিকেন্দ্রীকরণের সুপারিশ করে গেছে। বর্তমান সরকারও সেটা নিয়ে ভাবছে।দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া, নতুন সংযোগে জটিলতা, অবৈধ সংযোগ, পাইপলাইনের লিকেজ এবং জনবল সংকটের কারণে তিতাসের সেবার মান নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে শিল্প ও আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে।তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শাহনেওয়াজ বলেন, তিতাসকে তিনটি প্রশাসনিক ভাগে বিভক্ত করার যে কথা বলা হচ্ছে, সেই বিষয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ তিতাসে এসেছে। তিতাসের বোর্ড কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

বিশাল এলাকা, সীমিত সক্ষমতা

তিতাস বর্তমানে দেশের মোট গ্যাস বাজারের প্রায় ৫৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। কোম্পানিটির গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২৮ লাখ, যার মধ্যে অধিকাংশই আবাসিক গ্রাহক। এ ছাড়া শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেও গ্যাস সরবরাহ করে কোম্পানিটি। তিতাস গ্যাস রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন, সারকারখানা ও আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ করে। প্রায় অর্ধেকের বেশি জাতীয় গ্যাস বিতরণ কার্যক্রম একাই পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশাল এই নেটওয়ার্কের বিপরীতে পর্যাপ্ত জনবল, আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি। ফলে কোথাও পাইপলাইনে লিকেজ, কোথাও অবৈধ সংযোগ, আবার কোথাও দীর্ঘদিন ধরে চাপ সংকটের অভিযোগ থেকেই যাচ্ছে। দ্রুত কোনো সমাধান দিতে পারছে না তিতাস কর্তৃপক্ষ। নতুন কোনো গ্যাস সংযোগ, লোডবৃদ্ধি, কারখানা সম্প্রসারণ যে কোনো প্রয়োজনে তিতাসের নানা ধরনের সংকটের কারণে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের।