বিশাল ডিজিটাল কর্মযজ্ঞে রূপ নিচ্ছে ফ্যামিলি কার্ডদুপুরের মধ্যে ১৬ জেলায় বৃষ্টির শঙ্কাগরম থেকে বাঁচতে গিয়ে পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যুঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা চাইলেন আদালতঅবসরপ্রাপ্ত ৬৫ হাজার শিক্ষকের পেনশন বিতরণ আগস্টে শুরু
No icon

বিশাল ডিজিটাল কর্মযজ্ঞে রূপ নিচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড

গত জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিটি দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি এখন রূপ নিতে যাচ্ছে দেশের বৃহৎ সামাজিক সুরক্ষা ও ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডারের এক বিশাল কর্মসূচিতে। সরকারের পরিকল্পনা ও নীতিমালার খসড়া পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, এটি শুধু ভাতা বিতরণের একটি কর্মসূচি নয়; বরং জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ভূমির মালিকানা, সরকারি ভাতা, ব্যাংকিংসেবা এবং পারিবারিক তথ্যকে এক প্ল্যাটফর্মে এনে একটি নতুন ডিজিটাল নাগরিক অবকাঠামো গড়ে তোলার কর্মযজ্ঞ। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।সরকারি নথি অনুযায়ী, আসছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য ১৩ হাজার ৭৪০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা এবং ৩০৭ কোটি টাকার বেশি স্মার্ট কার্ড প্রস্তুতের জন্য ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ এবং ১ কোটি ৬১ লাখ নিম্নআয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছিল। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ধারণা সামনে এসেছে। এ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কার্যবিবরণী, প্রকল্পের ধারণাপত্র এবং ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৬ এর খসড়া বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারের লক্ষ্য শুধু উপকারভোগী নির্বাচন নয়; বরং পরিবারভিত্তিক একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা।

এক পরিবার, এক আইডি : খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে একটি স্থায়ী ও অনন্য (একক) ডিজিটাল পরিচিতি নম্বর দেওয়া হবে। এই ওয়ানআইডি হবে পুরো কর্মসূচির ভিত্তি। এটি শুধু একটি পরিচিতি নম্বর নয়; বরং রাষ্ট্রীয় তথ্য ব্যবস্থাপনার একটি সমন্বিত ডেটা গভর্ন্যান্স কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। প্রতিটি পরিবারের সদস্যকে একজন মনোনীত নারী পরিবারের প্রধানের সঙ্গে ডিজিটালি সংযুক্ত করা হবে। পরিবারের স্বামী, স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীল সদস্যদের সম্পর্ক একটি ফ্যামিলি ট্রি আকারে কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে সংরক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে সমজাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করা সম্ভব হবে।প্রস্তাবিত ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিভিন্ন সরকারি ডেটাবেসের সমন্বয়। নীতিমালার খসড়া অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নির্বাচন কমিশনের ঠিকানা তথ্য, অর্থ বিভাগের আইবাস এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের ল্যান্ড ওনারশিপ পোর্টালকে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। ফলে একজন নাগরিকের পরিচয়, ঠিকানা, ভূমির মালিকানা, সরকারি সহায়তা গ্রহণের ইতিহাস এবং পারিবারিক তথ্য একই প্ল্যাটফর্ম থেকে যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে ভুয়া উপকারভোগী শনাক্ত করা সহজ হবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা বাড়বে।

প্রস্তাবিত ফ্যামিলি কার্ড হবে একটি স্মার্ট চিপসমৃদ্ধ কার্ড। এতে একদিকে থাকবে আর্থিক লেনদেন সুবিধা, অন্যদিকে থাকবে ইলেকট্রনিক পরিচয়পত্র ব্যবস্থা। উপকারভোগীরা এটিএম থেকে টাকা তুলতে পারবেন। পয়েন্ট অব সেলে কেনাকাটা করতে পারবেন এবং মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন। কার্ডে নাম, ছবি, ওয়ান-আইডি, পারিবারিক পরিচয়সহ ২৭ ধরনের তথ্য সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। কিউআর কোড স্ক্যান করে মাঠপর্যায়ে তাৎক্ষণিক যাচাইও করা যাবে।