ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরান ইতোমধ্যেই বিশ্বের তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচল অনেকটাই সীমিত করে দিয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়।৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার যে হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, তার জবাবেই ইরান পাল্টাহুঁশিয়ারি দিল।ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দেশটির গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালালে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এতে আরও বলা হয়, ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি স্থাপনাগুলো পুনরায় গঠিত না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। ইসরায়েলের জ্বালানি এবং যোগাযোগ অবকাঠামোতেও আরও ব্যাপক পরিসরে হামলা চলবে।
সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় থাকা জ্বালানি স্থাপনা এবং অবকাঠামোগুলোকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুমকিও দিয়েছে ইরান।উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ বা ট্যাংকার বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি পার হতে পারছে না। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানির দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।ইরান বলছে, হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ হরমুজ পার হতে পারবে না। পার হতে গেলে হামলা চালানো হবে।এদিকে প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখতে ন্যাটো মিত্রদের সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে একাধিকবার অনুরোধ করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু অধিকাংশ দেশ বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে প্রস্তুত নয়।