ইসরায়েলের অব্যাহত গণহত্যা ও নির্বিচার হামলায় তিন বছর পর এখন চিনতেই পারা যাচ্ছে না পুরো গাজা উপত্যকাকে। গুগুল ম্যাপসের (Google Maps) সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে পুরো গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার এক নারকীয় দৃশ্য ফুটে উঠেছে। কোনো এক সময় যেখানে ব্যস্ত লোকালয়, কৃষিজমি এবং শতবর্ষী ঐতিহাসিক স্থাপনা ছিল, এখন সেখানে কেবলই ধু-ধু মরুভূমি আর কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ।
স্যাটেলাইট চিত্রে ধ্বংসের তীব্রতা আল জাজিরার প্রতিবেদনে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে উত্তর গাজা থেকে শুরু করে দক্ষিণ প্রান্তের রাফাহ পর্যন্ত ধ্বংসের ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে: রাফাহ ও আল-মাওয়াসি: দক্ষিণের শহর রাফাহর তাল আস-সুলতান এলাকায় ঘনবসতিপূর্ণ বাড়িঘর পুরো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আর একসময় ফাঁকা ও কৃষিভিত্তিক উপকূলীয় এলাকা আল-মাওয়াসিতে এখন কেবলই তাঁবুর ভিড়, যেখানে লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।
খান ইউনিস: গাজার কৃষি ও অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র খান ইউনিসে সবচেয়ে বেশি পরিকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। জাতিসংঘের উপগ্রহ কেন্দ্র (UNOSAT)-এর হিসাবে শুধু এই জেলাতেই ৫০ হাজারের বেশি অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক ইন্দোনেশিয়ান ইস্তিকলাল মসজিদ।
গাজা সিটি ও জাবালিয়া: গাজা সিটির ঐতিহাসিক বন্দর এবং প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মানুষের জীবিকার প্রধান কেন্দ্র সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে উত্তরের জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের পুরো এলাকা মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।
৮২ শতাংশ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNRWA) এবং জাতিসংঘের উপগ্রহ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ ভবন (প্রায় ২ লাখ অবকাঠামো) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার দুই-তৃতীয়াংশই পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত। গত বছর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ধ্বংসযজ্ঞ থামেনি; বরং এর পর থেকে বিধ্বস্ত ভবনের সংখ্যা আরও ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৭৪,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ১,৭৫,০০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজার হাজার নিখোঁজ মানুষকে হিসাব করলে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।