২৬ দিন বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফিরলো ইস্টার্ন রিফাইনারিঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেতরাজধানীতে চলন্ত ট্রেনে ছিনতাই, যাত্রীকে ছুরিকাঘাতরাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে ৩ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পেরলক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ ডোনাল্ড ট্রাম্প
No icon

লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৃহস্পতিবার নতুন করে গোলাগুলির ঘটনায় শান্তি আলোচনা পুরোপুরি অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি আলোচনা থেকে আদৌ কোনো সুফল আসবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি আসন্ন বলে দাবি করে আসছেন। তবে পরিস্থিতি সমাধানের দিকে যাচ্ছে না। ট্রাম্পের প্রধান দাবি ছিল, ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে হবে। তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। ট্রাম্পের এই লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব হয়ে দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ, এই যুদ্ধ থেকে ট্রাম্প শুরুতে যা চেয়েছিলেন, তা পাচ্ছেন না। শুক্রবার সিএনএনের এক বিশ্লেষণে এসব কথা বলা হয়।ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের একটি চুক্তি আসন্ন। তবে সর্বশেষ হামলা পাল্টা-হামলায় প্রতীয়মান হয়, আলোচনার টেবিলে থাকা সম্ভাব্য চুক্তিটি মূলত অগ্রগতি পায়নি। এই অবস্থার মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। জরিপে তাঁর জনসমর্থন ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

শান্তি আলোচনাটি একটি সংক্ষিপ্ত স্মারকলিপি বা সম্মতিপত্র তৈরিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। এতে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার প্রক্রিয়া উল্লেখ থাকবে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষায় ছিল। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে চাচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা অন্তত ১০ বছরের জন্য তা স্থগিত চান বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে হস্তান্তর চায় ওয়াশিংটন। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং ইরানের জব্দ করা বিলিয়ন ডলারের তহবিল মুক্ত করবে। এ ছাড়া উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।

যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহ পর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বলেছিলেন, শর্তহীন আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না। তাঁর আরেকটি লক্ষ্য ছিল, যা অর্জন করা অসম্ভব ছিল। হয়েছেও তাই। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল মিলে ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি।গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধ শুরুর রাতে ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প ইরানের জনগণকে বলেছিলেন, আমাদের কাজ শেষ হলে, আপনারা ক্ষমতা দখল করে নিন। পরে যে সরকার হবে, তা আপনাদেরই হবে। এটাই পদক্ষেপ নেওয়ার মুহূর্ত, হাতছাড়া হতে দেবেন না। কিন্তু ট্রাম্পের এই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি।