জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রিন্স হাসান’ বিমানঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইরানইন্দোনেশিয়ায় বিয়ের অতিথিবাহী পিকআপে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১৩দেশজুড়ে আজও অতিভারী বৃষ্টির শঙ্কাদুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ১৯ জেলায় বজ্রবৃষ্টির আভাসসোমবার বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
No icon

পশ্চিমা অনুমোদনই চীনের সি৯১৯ বিমান কেনার শর্ত মালয়েশিয়ার

চীনের তৈরি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ সি৯১৯ (C919) নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স। তবে বিমানটি বহরে যুক্ত করার আগে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন বা সার্টিফিকেশনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মালয়েশিয়া এভিয়েশন গ্রুপের (এমএজি) এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কোমাকের (Comac) তৈরি এই ন্যারোবডি বিমানটি তাদের বিবেচনায় রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহারের জন্য পশ্চিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন তিনি।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মালয়েশিয়া এভিয়েশন গ্রুপের এয়ারলাইন বিজনেস বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্রায়ান ফুং বলেন, চীনের সি৯১৯ বিমানটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইএএসএ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) অনুমোদন পেলে এর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের মতো আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার জন্য নিরাপত্তা মানদণ্ড সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিমানটির পশ্চিমা সার্টিফিকেশন পাওয়ার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

বোয়িং ৭৩৭ ও এয়ারবাস এ৩২০-এর বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে সি৯১৯ বিমান। ২০২৩ সালের মে মাসে চীনের অভ্যন্তরীণ রুটে প্রথম বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করে বিমানটি। তবে এখনো কোনো বিদেশি বিমান সংস্থা এই মডেলের বিমান বহরে যুক্ত করেনি।

ব্রায়ান ফুং জানান, মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের বর্তমান বিমান বহর আধুনিকায়নের সময় সি৯১৯ প্রস্তুত অবস্থায় ছিল না। দুই-তিন বছর আগে নতুন বিমান কেনার মূল্যায়নের সময় চীনের এই মডেলটি পুরোপুরি প্রস্তুত না থাকায় তারা বোয়িংয়ের বিমান বেছে নিয়েছিলেন।

মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ২০৩৫ সালের আগে নতুন কোনো ন্যারোবডি বিমান কেনার পরিকল্পনা নেই তাদের। তবে ভবিষ্যতের ক্রয়চক্রে কোমাকের সি৯১৯ গুরুত্বপূর্ণ একটি বিকল্প হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বিমান বাজারে বোয়িং ও এয়ারবাসের আধিপত্যের মধ্যে চীনের সি৯১৯ একটি নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। তবে বৈশ্বিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে নিরাপত্তা সার্টিফিকেশন এবং রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়নই কোমাকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। তথ্যসূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট