প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎজুলাই শহীদ দিবস আজনতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ, সময় ১৫ দিনদুপুরের মধ্যে ৮ জেলায় বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেতত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন সমাপ্ত
No icon

মার্কিন হামলায় নিহত ৩৫; বাহরাইন-কুয়েতে পাল্টা হামলা ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বুধবার রাতভর ইরানের দক্ষিণাঞ্চল, হরমুজ প্রণালি-সংলগ্ন উপকূল ও একাধিক কৌশলগত স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে তেহরান। পাল্টাপাল্টি এ হামলায় নতুন করে যুদ্ধ বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হরমুজ প্রণালিতে হুমকি সৃষ্টি করা ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে নৌ অবরোধ ভেঙে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করা একটি জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেওয়ারও দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

হামলার সময় হরমুজ প্রণালির কৌশলগত কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহার, কোনারাক ও রাস্কসহ একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।

.এর পাল্টা জবাবে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা এবং জ্বালানি ডিপো লক্ষ্য করে হামলার কথাও জানিয়েছে তারা। ফারস বার্তা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ‘সায়েকেহ’ অভিযানের নবম ধাপ।

অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ‘নাসর-২’ অভিযানের অষ্টম ধাপে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, হামলায় একটি আগাম সতর্কীকরণ রাডার এবং মার্কিন সেনাদের একটি সমাবেশস্থল লক্ষ্যবস্তু ছিল। তবে এসব দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আন্দিমেস্ক শহরের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, "যে সমঝোতা থেকে ইরান কোনো বাস্তব সুবিধা পায় না, সেটি মেনে চলার কোনো যৌক্তিকতা নেই।"

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি দ্রুত আলোচনায় না ফেরে, তাহলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে আরও হামলা চালানো হবে। পরে এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে তিনি বলেন, "ইরান এখন চাপের মধ্যে রয়েছে। তারা সমঝোতা করতে চায়। এখন দেখা যাক, আমরা চুক্তিতে পৌঁছাই, নাকি বিষয়টির চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটাই।"

মার্কিন সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপের পর একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের গন্তব্য পরিবর্তন করেছে। ফলে অঞ্চলটিতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এর জবাবে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ অব্যাহত রাখলে শুধু হরমুজ নয়, মার্কিন মিত্রদের ব্যবহৃত অন্যান্য তেল ও গ্যাস রপ্তানি পথও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। যদিও কোন কোন রুটকে লক্ষ্য করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।