১৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কসংকেতসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনাফ্যাসিস্ট পতনের আন্দোলনের মিত্রদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজযে কারণে আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফুটবলারদের ধাক্কাধাক্কিসাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে ফেরত চেয়ে দিল্লিকে ঢাকার চিঠি
No icon

২৪ ঘণ্টা একাধিক মন্ত্রীকে বরখাস্ত করলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় এসেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেন এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তরে নতুন নিয়োগ দেন। একই সঙ্গে তার নেতৃত্বে আগাম নির্বাচন হতে পারে কি না—তা নিয়েও ওয়েস্টমিনস্টারে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব নেওয়ার পর সোমবার বিকেলে বার্নহ্যাম নিজেই কয়েকজন মন্ত্রীকে ফোন করে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। এর কিছুক্ষণ পর সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলিকে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে ডাকা হয়। পরে তাকে যুক্তরাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

জন হিলির এই নিয়োগকে অনেকেই অপ্রত্যাশিত বলে মনে করলেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের একটি অংশ এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান থাকা একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় প্রতিরক্ষা খাত উপকৃত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বার্নহ্যাম জ্বালানি বিলের ওপর ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্তসহ একাধিক নীতিগত ঘোষণা দেন। নতুন সরকার শুরু থেকেই দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েছে বলেই এসব পদক্ষেপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

তবে জ্বালানি বিলের ওপর ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানালেও এর অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি। দলটির নেতাদের মতে, কর কমানোর পরিকল্পনার আর্থিক প্রভাব সম্পর্কে সরকারকে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।

বার্নহ্যামের নতুন মন্ত্রিসভায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ওয়েস স্ট্রিটিং এবং জ্বালানিমন্ত্রী হয়েছেন মিয়াট্টা ফানবুল্লে। তারা দুজনই আগে সরকারের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে আলোচনায় ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি দলীয় সমীকরণও এসব নিয়োগে ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক চিফ সেক্রেটারি ড্যারেন জোনস প্রকাশ্যে বার্নহ্যামের জ্বালানি নীতির সমালোচনা করেছেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে, লেবার পার্টির ভেতরেও নতুন নেতৃত্ব নিয়ে পুরোপুরি ঐকমত্য তৈরি হয়নি।

লেবার পার্টির একাধিক সংসদ সদস্যের দাবি, মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বার্নহ্যাম তিন ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেউ রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বাদ পড়েছেন, কেউ প্রশাসনিক দক্ষতার অভাবে, আবার কেউ দলীয় সংসদ সদস্যদের আস্থাহীনতার কারণে দায়িত্ব হারিয়েছেন। এদিকে ওয়েস্টমিনস্টারের রাজনৈতিক অঙ্গনে আগাম জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিরোধী রিফর্ম পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজ দাবি করেছেন, জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত না হয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় বার্নহ্যামের নতুন ম্যান্ডেট নেওয়া উচিত।

তবে বার্নহ্যাম এখন পর্যন্ত আগাম নির্বাচনের কোনো পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেননি। তার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, বর্তমান সরকারের নীতিগুলো বাস্তবায়নেই আপাতত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগাম নির্বাচন ডাকা হলে বার্নহ্যাম নতুন করে জনসমর্থন অর্জনের সুযোগ পেতে পারেন। অন্যদিকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করলে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও রাজনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে তাকে। তথ্যসুত্র: বিবিসি