প্রশাসক বসছে ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানেবিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রীআগামীকাল এসএসসির ফল প্রকাশ, যেভাবে জানবেনআজ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীলঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টির পূর্বাভাস, ৮ জেলায় বন্যার শঙ্কা
No icon

কলম্বিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্টের শপথের পর গাড়িবোমা হামলা

কলম্বিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার শপথ গ্রহণের একদিন পর দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গাড়িবোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার কক্কা প্রদেশের প্যান-আমেরিকান মহাসড়কের একটি টোল প্লাজায় বিস্ফোরণে দুই নিরাপত্তাকর্মী সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সাবেক বিদ্রোহী সংগঠন রেভল্যুশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়া (ফার্ক) থেকে বিচ্ছিন্ন দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলাটির সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে সরকারের সঙ্গে শান্তিচুক্তির পর ফার্ক আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র ত্যাগ করেছিল।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, কক্কা প্রদেশের প্যান-আমেরিকান মহাসড়কের একটি টোল প্লাজাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এক ব্যক্তি বিস্ফোরকবোঝাই গাড়িটি সেখানে রেখে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

হামলার পর নতুন সরকার কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী এলসা নোগুয়েরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, সহিংসতার কাছে কলম্বিয়া মাথা নত করবে না এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে সংযুক্তকারী অবকাঠামো ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না।

তিনি প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলার শপথ অনুষ্ঠানের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার সময় শুরু হয়েছে। সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।

শুক্রবার দায়িত্ব নেওয়া দে লা এসপ্রিয়েলা নির্বাচনী প্রচারে কলম্বিয়ার সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মাদকচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। শপথ অনুষ্ঠানের ভাষণেও তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনার পথ কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন এবং আরও সামরিকনির্ভর নিরাপত্তা নীতির ইঙ্গিত দেন।

ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে কলম্বিয়া অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাতের সঙ্গে লড়াই করছে। ডানপন্থী প্যারামিলিটারি, বামপন্থী বিদ্রোহী, সরকারি বাহিনী ও বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সংঘাত দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে দীর্ঘদিন ধরে জটিল করে রেখেছে। বিশ্বের অন্যতম বড় কোকা উৎপাদক দেশ হওয়ায় মাদক পাচারও কলম্বিয়ার জন্য বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ।

জুনের দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দে লা এসপ্রিয়েলা বামপন্থী প্রার্থী সিনেটর ইভান সেপেদাকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেন। ক্ষমতায় এসে তিনি তাঁর পূর্বসূরি গুস্তাভো পেত্রোর ‘টোটাল পিস’ নীতি থেকে সরে গিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

পেত্রোর ‘টোটাল পিস’ নীতির মূল লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সংঘাত কমানো। তবে দে লা এসপ্রিয়েলা মনে করেন, আলোচনার সুযোগ শেষ হয়ে গেছে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

নতুন প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনও পেয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন কলম্বিয়াকে নিরাপত্তা খাতে ১ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে মাদক পাচার ও অপরাধ দমনে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ভূমিকা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

দে লা এসপ্রিয়েলা মাদক পাচারে ব্যবহৃত সন্দেহভাজন নৌযান ও বিমান লক্ষ্য করে সামরিক হামলার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে, এ ধরনের কঠোর সামরিক কৌশল সরকারি বাহিনীর হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

নতুন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা কলম্বিয়ার দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সংকটকে আবারও সামনে এনেছে। সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে দে লা এসপ্রিয়েলার ঘোষিত কঠোর নীতি বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করা হয়, তা এখন নজরে থাকবে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা