প্রশাসক বসছে ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানেবিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রীআগামীকাল এসএসসির ফল প্রকাশ, যেভাবে জানবেনআজ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীলঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টির পূর্বাভাস, ৮ জেলায় বন্যার শঙ্কা
No icon

শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে : অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান

বার্তা প্রেরক
আতাউর রহমান 
সিনিয়র রিপোর্টার

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন,  শ্রমিকের অধিকার, ন্যায্য মজুরি, কর্মঘণ্টা, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

 তিনি খুলনায়  মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ট্রেড ইউনিয়ন ও পেশা ভিত্তিক দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।  গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট) খুলনার খালিশপুরের শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে
সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন খুলনা মহানগরীর সভাপতি  আজিজুল ইসলাম ফরাজী, এবং ডাঃ সাইফুজ্জামানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক আজিজুর রহমান, অঞ্চল টিম সদস্য আলফিদা হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থাপন বিষয়ক সম্পাদক খানঁ গোলাম রসুল প্রমুখ।
প্রধান অতিথি  অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান আরও বলেন,  দেশের যেখানেই শ্রমিক জুলুম ও বৈষম্যের শিকার হবেন, সেখানেই শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
তিনি বলেন, ১৯৬৮ সালের ২৩ মে যে সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়েছিল, ৫৭ বছর পর এসে সংগঠনটি দেশের প্রধান বিরোধী দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন হিসেবে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। তবে রাষ্ট্রীয় নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে অতীতে শ্রমিকদের হয়ে যে পরিমাণ আওয়াজ তোলা প্রয়োজন ছিল, সে সুযোগ পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদের আমলে দীর্ঘ ১৫ বছর সরকারবিরোধী রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করার সুযোগ পায়নি। ৫ আগস্টের পর দেশে নতুন যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যারা শ্রমিক ময়দানে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, আমরা অনেক ভাগ্যবান।” এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, “তোমরা কেন সংগ্রাম করছ না সেই মজলুম নারী-পুরুষদের জন্য, যারা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছে—হে আল্লাহ, আপনার জনপদ থেকে আমাদের বের করে নিন।” তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে দেশের সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার, অধিকারহারা ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের একটি বড় অংশ শ্রমজীবী মানুষ। সরকার আসে, সরকার যায়, বাজেট অনুমোদন হয়,কিন্তু শ্রমিকের ভাগ্যের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয় না।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শ্রমিকদের প্রতি সম্মানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে ভাইয়ের মতো আচরণ করো। “তোমরা যা খাও, তাদেরও তা খাওয়াও তোমরা যা পরিধান করো, তাদেরও তা পরিধান করাও”—হাদিসের এ শিক্ষার আলোকে শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, “শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগে মজুরি দিয়ে দাও।” অথচ বাস্তবে দেশের শ্রমিকের শুধু গায়ের ঘাম নয়, রক্তও শুকিয়ে যায়; তারপরও অনেক সময় মজুরি পায় না।
তিনি বলেন, এখনো শ্রমিকদের বকেয়া মজুরির জন্য রাজপথে আন্দোলন করতে হয়। শ্রমিকরা ন্যায্য পাওনার দাবিতে রাস্তায় নামলে অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের কঠোর আচরণের শিকার হন। যে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল মজুরি না দেওয়া মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, সেখানে শ্রমিকের ওপরই চাপ প্রয়োগ করা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়।
কর্মঘণ্টা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আট ঘণ্টা কর্মদিবস প্রতিষ্ঠার দাবিতে শিকাগো শহরে শ্রমিকরা জীবন দিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো সর্বত্র আট ঘণ্টা কর্মদিবস প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিশেষ করে পরিবহন খাতের শ্রমিকরা দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। দূরপাল্লার অনেক চালক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেও যথাযথ ছুটি পান না। অধিকাংশ শ্রমিকের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটলে সব দায় তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, পোশাক শ্রমিক ন্যায্য মজুরি পান না, কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পান না। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন শ্রমজীবী মানুষ। তাই তিনি বলেন, “গ্যাস দাও, বিদ্যুৎ দাও, নইলে গদি ছেড়ে দাও।” জনগণকে সুবিধা দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েই সরকার ক্ষমতায় আসে; জনগণকে সুবিধা না দিয়ে বারবার দাম বাড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়।
অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, “আমরা জুলুম করব না, অন্যায় করব না, কাউকে জুলুম করতে দেব না, অন্যায় সহ্য করব না। যেখানে জুলুম হবে, সেখানে প্রতিরোধ হবে; যেখানে চাঁদাবাজি হবে, সেখানেই প্রতিরোধ হবে।” শতভাগ চাঁদাবাজিমুক্ত শ্রমিক পরিবেশ তৈরির প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের কাছ থেকে আদায় করা মাসিক চাঁদা লুটপাট করা যাবে না; তা শ্রমিকদের কল্যাণেই ব্যয় করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ন্যায় ও আদর্শভিত্তিক শ্রমিক সংগঠনকে দেশের সব সেক্টরে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ চলছে। শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুষম বণ্টন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি আদর্শিক শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করে সৎ ও আদর্শিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার আহ্বান জানান,