বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজঢাবিতে মেয়েদের হল খোলা থাকবে রাত ১১টা পর্যন্তঋণখেলাপিদের আরও বড় ছাড় দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকহরমুজ দিয়ে প্রতিরাতে ৩০ জাহাজ চলাচল করছে: ট্রাম্পদুপুরের মধ্যে ৬ জেলায় বৃষ্টির শঙ্কা
No icon

শরিয়ত রক্ষায় ভারতজুড়ে গণআন্দোলনের ডাক মুসলিম ল বোর্ডের

নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মানবমর্যাদা রক্ষায় ভারতজুড়ে এক বিশাল "গণআন্দোলন"-এর ঘোষণা দিয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড (এআইএমপিএলবি)। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশটির প্রধান প্রধান নগরীগুলোতে জনসভা ও প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, "সংবিধান ও শরিয়ত সুরক্ষা আন্দোলন" শীর্ষক এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য হবে নাগরিক অধিকার এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষা করা।প্রচারণার একটি অংশ হিসেবে মুসলিমদের ওপর হওয়া চরম বৈষম্য, সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা ঘটনা লিপিবদ্ধ করে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ 'শ্বেতপত্র' বা তথ্যচিত্র প্রস্তুত ও প্রচার করবে এআইএমপিএলবি।

বোর্ড জানায়, এই তথ্য দলিলটি গণমাধ্যম, মানবাধিকার সংস্থা, বুদ্ধিজীবী, নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভারতের বড় বড় শহরগুলোতে জনসভার আয়োজন করা হবে। সেখানে বক্তব্য রাখার জন্য বিভিন্ন ধর্মের বিশিষ্ট পণ্ডিত, ধর্মীয় নেতা, চিন্তাবিদ এবং সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। এ ছাড়া নয়া দিল্লিতেও একটি বড় প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।


এআইএমপিএলবি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই আন্দোলনকে কেবল মুসলিম কিংবা কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের আন্দোলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।এক বিবৃতিতে বোর্ড উল্লেখ করে, "এটি কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর লড়াই নয়; বরং এটি ভারতের সংবিধান, গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠত্ব, আইনের শাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবমর্যাদা, জাতীয় সংহতি, শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব রক্ষার এক যৌথ জাতীয় সংগ্রাম।"

সংগঠনটি দেশের সাধারণ নাগরিক ও সুশীল সমাজের সংগঠনগুলোকে এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।এক সংবাদ সম্মেলনে এআইএমপিএলবি সদস্যরা বলেন, "আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—বিচার, ভালোবাসা, সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সাংবিধানিক পথই ভারতের শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের প্রকৃত নিশ্চয়তা। এই বিশ্বাস থেকেই আমরা দেশের প্রতিটি ন্যায়প্রিয়, গণতান্ত্রিক ও শান্তিকামী নাগরিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন এবং সুশীল সমাজের দায়িত্বশীল সদস্যদের এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।"


বোর্ড অভিযোগ করে জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিম ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং তাদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তারা কিছু নির্দিষ্ট প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেছে, মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণপিটুনি ও মব ভায়োলেন্সের নানা ঘটনা ঘটে চলেছে, আইনবহির্ভূত বুলডোজার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে, মসজিদ, মাদ্রাসা ও দরগাহ টার্গেট করা হচ্ছে, ওয়াকফ সম্পত্তি ও কবরস্থান অবৈধভাবে দখল, ভিত্তিহীন মামলায় মুসলিম যুবকদের নির্বিচারে গ্রেফতার, ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি)-এর মাধ্যমে মুসলিম পার্সোনাল ল ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং'বন্দে মাতরম' গাওয়া বাধ্যতামূলক করার মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হানার চেষ্টা চলছে।

বোর্ড মন্তব্য করে, "এসব কর্মকাণ্ড দেশের একটি বিরাট জনগোষ্ঠীর মনে গভীর নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে।"
এআইএমপিএলবি জানিয়েছে, তাদের এই আসন্ন দেশব্যাপী প্রচারণা এসব বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং একই সাথে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে সমস্যাগুলোর সমাধানের চেষ্টা চালাবে।