বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজঢাবিতে মেয়েদের হল খোলা থাকবে রাত ১১টা পর্যন্তঋণখেলাপিদের আরও বড় ছাড় দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকহরমুজ দিয়ে প্রতিরাতে ৩০ জাহাজ চলাচল করছে: ট্রাম্পদুপুরের মধ্যে ৬ জেলায় বৃষ্টির শঙ্কা
No icon

বন্ডে অনুমোদন স্থগিত করল লুক্সেমবার্গ

আন্তর্জাতিক চাপ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বিরোধিতার মুখে ইসরায়েলি বন্ড (ঋণপত্র) ইস্যুর মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের দেশ লুক্সেমবার্গ। ৩১ আগস্ট (সোমবার) বন্ডের প্রসপেক্টাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা পুনরায় অনুমোদন না দেওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ইসরায়েল।

লুক্সেমবার্গের অর্থমন্ত্রী জিলস রথ সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএল-কে জানান, দেশের আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘সিএসএসএফ’ গত মে মাসেই আগস্টের পর এই বন্ডের অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

কেন এই পদক্ষেপ?
সাধারণত ইইউ-এর বাইরের কোনো দেশ যদি ইউরোপীয় বাজারে বন্ড ছেড়ে অর্থ তুলতে চায়, তবে ইইউভুক্ত যেকোনো একটি দেশের আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। যুক্তরাজ্যের ইইউ ত্যাগের পর আয়ারল্যান্ড এতদিন ইসরায়েলি বন্ডের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছিল। কিন্তু গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন ও গণহত্যার প্রতিবাদে আয়ারল্যান্ড গত বছর অনুমোদন নবায়ন বন্ধ করে দেয়। এরপর লুক্সেমবার্গ এই দায়িত্ব নিলেও সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রবল চাপের মুখে তারাও এখন পিছু হটলো।

মানবাধিকার সংস্থা ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’ জুলাই মাসেই লুক্সেমবার্গ সহ ইইউভুক্ত দেশগুলোকে ইসরায়েলি বন্ড বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল। সংস্থাটির মতে, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বন্ডের মাধ্যমে তোলা অর্থ সরাসরি গাজা ও ফিলিস্তিনে সামরিক অভিযানে ব্যবহার করছে ইসরায়েলি সরকার। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল।

ইসরায়েলের ওপর প্রভাব:
লুক্সেমবার্গের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপীয় বাজারে নতুন করে বন্ড ইস্যু করতে হলে ইসরায়েলকে এখন অন্য কোনো ইইউ দেশের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে। তবে ইউরোপজুড়ে যুদ্ধবিরোধী জনমত প্রবল থাকায় নতুন কোনো দেশ এই ঝুঁকি নেবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক বাজার থেকে ইসরায়েল বছরে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার উত্তোলন করে আসছিল। ইউরোপের পথ সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অবশ্য এখনো ইসরায়েলি বন্ড বিক্রি সচল রয়েছে।