বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজঢাবিতে মেয়েদের হল খোলা থাকবে রাত ১১টা পর্যন্তঋণখেলাপিদের আরও বড় ছাড় দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকহরমুজ দিয়ে প্রতিরাতে ৩০ জাহাজ চলাচল করছে: ট্রাম্পদুপুরের মধ্যে ৬ জেলায় বৃষ্টির শঙ্কা
No icon

লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিমিশনের বিদায়

দক্ষিণ লেবাননে প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলমান জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশন (UNIFIL)-এর মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় তৈরি হওয়া সম্ভাব্য নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক শূন্যতা পূরণ করতে একটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) সামরিক ও অসামরিক মিশন পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা তীব্র হচ্ছে।

আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠকে লেবাননের এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতি প্রধান এজেন্ডা হিসেবে স্থান পাচ্ছে।

ইইউ প্রস্তাবনার মূল বিষয়সমূহ
ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস (EEAS) একটি ৩ বছর মেয়াদী মিশনের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। প্রস্তাবিত মিশনের প্রধান কাজগুলো হলো: লেবাননি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ: লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী (LAF) এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীকে (ISF) প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা।

সীমান্ত ও সমুদ্র সুরক্ষা: সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা জোরদারে সহায়তা করা। রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বাড়ানো: ইউনিফিলের বিকল্প হিসেবে সরাসরি যুদ্ধ বা যুদ্ধবিরতি চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং লেবানন সরকারের নিজস্ব সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা।

ইউনিফিলের বিদায় ও নতুন চ্যালেঞ্জ
১৯৭৮ সালে ইসরায়েলি আক্রমণের পর দক্ষিণ লেবাননে ইউনিফিল গঠিত হয়। ২০০৬ সালের যুদ্ধবিরতির পর এর পরিধি বাড়ানো হলেও ইসরায়েলের অভিযোগ ছিল—ইউনিফিল হিজবুল্লাহর সামরিক উত্থান ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশন সরে গেলে লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে ক্ষমতার এক বিপজ্জনক শূন্যতা তৈরি হবে। আইরিশ সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস-এর অধ্যাপক রেমন্ড মারফির মতে, ইউরোপীয় মিশন আসলেও তারা হয়তো সরাসরি হিজবুল্লাহর অস্ত্রসংবরণ বা ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারে বাধ্য করতে পারবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইমাদ সালামে সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক তদারকি না থাকলে ইসরায়েল সুবিধা পেতে পারে এবং একটি স্থায়ী সামরিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।