বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় জয় পেয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা। এর মধ্য দিয়ে দেশটির ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত নারী রাষ্ট্রপ্রধান হতে যাচ্ছেন তিনি। সোমবার (২ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রায় চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, ইয়োতোভা ও তাঁর রানিং মেট কিরিল ভালচেভ পেয়েছেন ৫৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ ভোট। বুলগেরিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৯৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের ফল গণনা শেষে ইয়োতোভা ও ভালচেভের পক্ষে পড়েছে প্রায় ১০ লাখ ৯৪ হাজার ভোট। তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই গিউরভ ও তাঁর রানিং মেট জর্জি কানদেভ পেয়েছেন ৩৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ ভোট। প্রায় ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ ভোটার কোনো প্রার্থীকে সমর্থন করেননি। পরাজয় মেনে নিয়েছেন গিউরভ। তিনি বলেন, নাগরিকেরা তাঁদের রায় দিয়েছেন এবং ফলাফল মেনে নিতে হবে। নির্বাচনের আগে বুথফেরত জরিপেও ইয়োতোভা এগিয়ে ছিলেন। তবে চূড়ান্ত সরকারি ফল প্রকাশের আগে এসব জরিপের হিসাব একেক সংস্থায় ভিন্ন ছিল।
২ বছর বয়সী ইয়োতোভা চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেভ পদত্যাগ করে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর তিনি এ দায়িত্ব পান। রাদেভের নেতৃত্বাধীন প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া দল ইয়োতোভার প্রার্থিতাকে সমর্থন করে। তাঁর এই জয়ের ফলে রাষ্ট্রপতির পদে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শিবিরের অবস্থান বজায় থাকল।
ইয়োতোভা বুলগেরিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ ও ইউরোপমুখী অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পক্ষে কথা বলেছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে সামরিক সহায়তার পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, গিউরভ ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন এবং পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
বুলগেরিয়ায় প্রেসিডেন্টের পদ মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় এর রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, আইনসভায় পাস হওয়া বিলে ভেটো দিতে পারেন এবং আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। দেশটিতে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর। তথ্যসূত্র: রয়টার্স