→ জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী→ হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প→ দিনভর গ্যাসের চাপ কম, ভোগান্তিতে রাজধানীবাসী→ নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর ৩০ কর্মসূচি, ১১ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক→ বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত: প্রধানমন্ত্রী
No icon

শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিঃস্বার্থভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে:অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন,  শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিঃস্বার্থভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে, সংগঠনের নাম ব্যবহার করে টার্মিনাল, ঘাট, বাজার ও সিএনজি স্টেশন নিয়ন্ত্রণ, জুট ব্যবসা ও পরিবহন খাত দখলের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে একসময় শ্রমিকরা এসব নেতাকে প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হবে। শ্রমিক সংগঠন মানে চাঁদাবাজি ও দখলদারি নয়, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আদর্শিক ও নিঃস্বার্থ ভূমিকা পালন করাই শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব। গতকাল (২৫ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার  কুড়িগ্রামে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন,  বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শ্রমিকদের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করায় শ্রমিকদের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। শ্রমিক সংগঠন যে চাঁদাবাজি ও দখলদারির জন্য নয়, বরং শ্রমিকদের প্রতি নিঃস্বার্থ কাজের মাধ্যমে আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা যায়—ফেডারেশন সেটি প্রমাণ করবে। দেশের বিভিন্ন গণআন্দোলনে শ্রমিকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে ঊনসত্তর, একাত্তর, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। চব্বিশের আন্দোলনে সরকারিভাবে যে শহীদের তালিকা করা হয়েছে, সেখানে তিন শতাধিক শ্রমিকের নাম রয়েছে।” কুড়িগ্রামের কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি উপেক্ষা করে কৃষকেরা ফসল উৎপাদন করছেন। অথচ তারা ন্যায্য মূল্য, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন অধিকার থেকে বঞ্চিত। মধ্যস্বত্বভোগীরা সুবিধা পেলেও কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না।

জেলার পৌর অডিটোরিয়ামে, জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট ইয়াছিন আলী সরকারের সভাপতিত্বে এবং জেলা সাধারণ সম্পাদক  আতাউর রহমান এর সঞ্চালনায়  প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন  কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক গোলাম রব্বানী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন  অঞ্চল  সহ-পরিচালক ড. জিয়াউল হক, অধ্যাপক  আবুল হাসেম বাদল, জেলা উপদেষ্টা  মাওলানা আব্দুল হামিদ মিয়া প্রমুখ।

প্রধান অতিথি  তাঁর বক্তব্যে সার সংকট প্রসঙ্গে  বলেন, “কৃষকেরা বীজ, সার ও কীটনাশক ঠিকমতো পাচ্ছেন না। ডিলাররা বেশি কমিশনের আশায় কৃত্রিমভাবে সার সংকট সৃষ্টি করলে কৃষক শ্রেণি তা আর মেনে নিবে না। প্রয়োজন হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।” অবিলম্বে সার সংকট নিরসন করে কৃষকদের ন্যায্য মূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
পোশাকশ্রমিকদের প্রসঙ্গে ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন,
 পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের বড় একটি অংশ উত্তরবঙ্গের। এসকল শ্রমিক কাঙ্ক্ষিত বেতন ও অধিকার থেকে বঞ্চিত । শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের যে ভূমিকা থাকা প্রয়োজন, তা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে না। সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “রাতের গভীরে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনবার তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশের সংকট ও সমস্যা সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে না পারার কারণে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে।” দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “তেলের দাম কমান, বাজার নিয়ন্ত্রণ করুন। না হলে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসবে।” চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ভাইভায় নম্বর বাড়িয়ে মনগড়া নিয়োগের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ভেরিফিকেশনের নামে প্রায় সাতশো'র বেশি শিক্ষার্থীকে চাকরি না দেওয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। এতে সাধারণ কৃষকের ছেলে-মেয়েরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হবে। চব্বিশ-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের ব্যবস্থা মেনে নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


বার্তা প্রেরক
আতাউর রহমান
সিনিয়র রিপোর্টার