মাহাথির মোহাম্মদকে নেওয়া হয়েছে হার্ট ইনস্টিটিউটেভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন দেলসি রদ্রিগেজরোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কথা আছে, কাজ নেইশীতে কাঁপছে সারাদেশ, শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহততিন দফা স্থগিতের পর জকসু নির্বাচন আজ
No icon

হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপছে নওগাঁ, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির ঘরে

শীত যেন কোনোভাবেই কমছে না উত্তরের জেলা নওগাঁয়। দিন যতই যাচ্ছে, ততই বাড়ছে এ জেলায় শীতের তীব্রতা। তাপমাত্রার পারদ উঠানামা করছে ৯ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।সোমবার(৫ জানুয়ারি ) সকাল ৯ টায় নওগাঁ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এরআগে গত শনিবার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটাই ছিল এই মৌসুমে নওগাঁ সবচাইতে সর্বনিম্ন এবং দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।স্থানীয়রা বলেছেন, সন্ধ্যার পর থেকে ঘন কুয়াশার সঙ্গে বেশ শীত অনুভূত হয়। রাতভর কুয়াশার ঢেকে থাকে পথঘাট এলাকা। সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা কমে যায় ঠান্ডার অনুভূতি। আজ সকাল থেকে সূর্যের দেখা মিলেনি। দুপুরে পরে মাঝে মাঝে নিরুত্তাপ সূর্য উঠলেও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন নিয়ে গড়ে তুলেছে বিপর্যস্ত।সদর উপলোর হাপানিয়া এলাকার জয়নাল আবেদীন বলেন, দিনের বেলা রোদ না থাকায় শীতের তীব্রতা কিছুটা বেশি থাকে। কিন্তু সন্ধ্যা হলেই গায়ে পড়তে হয় শীতের কাপড়। ঘুমোতে গেলে ২/৩ টা লেপ-কম্বল ছাড়া উপায় থাকে না।

বরুনকান্দি এলাকার ভ্যানচালক সোবহান বলেন, সন্ধ্যা পর ঠাণ্ডা বাতাস ও শীতের কারণে রিকশা চালানো কষ্ট হয়ে যায়। বিকেল- সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত ভ্যান চালানোই কষ্ট। সকালে যাত্রীও পাওয়া যায় না।নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতলের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু জার গাফফার জানান, গত কয়েকদিন ধরে ঠাণ্ডা জড়িত রোগে শিশু, মধ্য বয়সী ও বয়স্ক মিলে বেশ কয়েক শতাধিক রোগীর চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও টিওপিডি রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দুই শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছে।নওগাঁয় শীতের প্রকোপ বাড়তে থাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায় গরিব ও দিনমজুর মানুষের মধ্য শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করা হয়েছে।নওগাঁ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসার মো. আশেকুর রহমান জানান, প্রতিটি উপজেলায় অসহায় ছিন্নমুল দিনমজুর মানুষের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ করার জন্য ইতিমধ্যে ছয় লক্ষ টাকা করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। এতে জেলায় ১১ উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টার ত্রান তহবিল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং জেলা পরিষদ থেকে ৩০ হাজার ৬শ পিস কম্বল জেলায় বরাদ্দ এসেছে। যা বিতরণ কার্যক্রম চলমান আছে ।