আজ বিশ্বে বায়ুদূষণে শীর্ষে বাগদাদ, ঢাকার অবস্থান কত?দুপুরের মধ্যে ১০ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কাইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘লাইফ সাপোর্টে’ আছে: ট্রাম্পতিনটি প্রশাসনিক জোনে ভাগ হবে তিতাস গ্যাসভালো ঈদযাত্রার চেষ্টায় মন্ত্রণালয়: সড়কমন্ত্রী
No icon

দশ বছরে নার্স বেড়েছে শতভাগ দক্ষতা ঘাটতি ৮২ ভাগ

দেশে এক দশকে নার্স বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউট। তবে নার্সের সংখ্যা বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি স্বাস্থ্যসেবার মানে। দুর্বল কারিকুলাম, পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের অভাব ও শিক্ষক সংকটে বিশেষ দক্ষতা ছাড়াই কাজ করছেন ৮২ শতাংশ নার্স। বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেশাগত অবমূল্যায়নের কারণে নার্সিং খাত এখনও কাঠামোগত সংকটে রয়েছে। এছাড়া নার্সিং গবেষণার পরিধি এখনও সীমিত। গবেষণায় অর্থায়নের অভাব, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ঘাটতি এ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। দক্ষ ও ক্ষমতায়িত নার্স ছাড়া সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (ইউএইচসি) এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সম্ভব নয়। এমন বাস্তবতায় আজ মঙ্গলবার বিশ্ব নার্স দিবস পালিত হচ্ছে। এই দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ: ক্ষমতায়িত নার্স জীবন বাঁচায় ।বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (বিএনএমসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশে নিবন্ধিত নার্স ও মিডওয়াইফের সংখ্যা প্রায় ১১০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে এ সংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৮৪। ১০ বছর আগে ছিল ৫৫ হাজার ৫০০ জন। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ৪৭ হাজার ১২৬ জন নার্স। একই সময়ে নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউট ৩১৯ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৫৩টি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে নার্স আছেন মাত্র দশমিক ৬৬ জন, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ডের অনেক নিচে। ডাক্তার-নার্স অনুপাতও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকে পিছিয়ে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও দক্ষতা বাড়েনি জাপানের হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব বায়োমেডিকেল অ্যান্ড হেলথ সায়েন্সের পিএইচডি গবেষক সালমা আখতার বলেন, দেশে নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও মানসম্মত শিক্ষার ক্ষেত্রে এখনও বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের সুযোগ নেই। আধুনিক সিমুলেশন ল্যাবের অভাব, দক্ষ শিক্ষকের সংকট এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার ঘাটতি নার্সিং শিক্ষাকে পিছিয়ে দিচ্ছে। ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন (সিপিডি) কার্যক্রমও পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে অনেক নার্স তাল মেলাতে পারছেন না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার প্রশিক্ষিত নার্স এবং ৮ হাজার মিডওয়াইফ বেকার রয়েছেন। অথচ অনেক বেসরকারি হাসপাতালে পেশাদার নার্সের পরিবর্তে অপ্রশিক্ষিত ব্যক্তিদের দিয়ে নার্সিং সেবা পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি এ পরিস্থিতিকে জাতীয় বিপর্যয় বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডে কর্মরত নার্সদের নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা উচিত। এতে পেশাদার নার্স নিশ্চিত করা সহজ হবে।