সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেতদুপুরের মধ্যে ১৪ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কামরক্কোর হৃদয় ভেঙে সেমিতে ফ্রান্সসংবিধানের পাঁচটি অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনতে হবে পাহাড় ধসে আরও সাত মৃত্যু, পানিবন্দি লাখো মানুষ
No icon

সাত জেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি লাখো মানুষ

বান্দরবান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া বয়স্ক পাহাড়ি নারী এসাইন মারমা বলেন, তাঁর বাড়ি মধ্যমপাড়ার সাঙ্গু নদীর পারে। পানিতে তাঁর ঘর ডুবে গেছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁর মেয়ে ও দুই নাতনিকে নিয়ে এই স্কুলে এসেছেন। এখানে ঘুমানোর সমস্যা, ঠিকমতো রান্না করা যায় না, শৌচাগারের সমস্যা।বান্দরবান শহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া মো. কামাল উদ্দিন বলেন, তিনি অনেকদিন ধরে অসুস্থ। এই আশ্রয়কেন্দ্রে এত মানুষের হট্টগোল ঘুমাতে সমস্যা হচ্ছে। এতে তাঁর শরীর আরও খারাপ লাগছে। জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে রাতে খিচুড়ি, মুড়ি, পানির বোতল, মোমবাতি দেওয়া হয়েছে। আর একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে পাউরুটি, চিড়ামুড়ি, মশার কয়েল, পানি ও ২০০ টাকা দিয়েছে।জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস জানান, পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক সামাল দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। 

কক্সবাজারে পানিবন্দি লাখো মানুষ
কক্সবাজারের ১০ উপজেলায় বৃহস্পতিবারও বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। রামু ও কক্সবাজার, ঈদগাঁও ও কক্সবাজার সদর উপজেলার ৬ ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলায় অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।চকরিয়া উপজেলায় মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে চিরিংগা সেতু পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, চিরিংগা পয়েন্টে মাতামুহুরী নদীর বিপৎসীমা ধরা হয় ৫ দশমিক ৮ মিটার। সকাল ৯টায় সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ৬ দশমিক ২৯ মিটার।পাউবো সূত্রে জানা গেছে, মাতামুহুরীর নদীর কোনাখালী পুরুইত্যাখালী পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে ঢলের পানি লোকালয়ে ঢুকেছে। পৌরসভার ভাঙারমুখ, আমাইন্যারচর, নামার চিরিংগা ও মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালীর পুরুইত্যাখালী, মরংঘোনা এলাকায় ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ বাঁধ ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

রাঙামাটিতে চার হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম, চন্দ্রঘোনা-বাঙালহালিয়া সড়কসহ অন্তত ১২৭টি স্থানে ছোট-বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার ৩০টি গ্রাম। এ পর্ষন্ত বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৪ হাজার ২৬৫ জন মানুষ। পানিতে ভেসে গিয়ে দুই ব্যক্তির মুত্যু হয়েছে।বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সাপছড়ি এলাকায় পাহাড় ধসে প্রায় আড়াই ঘণ্টা যানবাহন চলা বন্ধ ছিল। পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজন মাটি সরিয়ে ফেলে। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। চন্দ্রঘোনা-বাঙালহালিয়া সড়কের পাহাড় ধসে পড়ায় চলাচল বন্ধ ছিল।

বিকেল চারদিকে মাটির সরানোর যানবাহর চলাচল স্বাভাবিক হয়। দীঘিনালা-মারিশ্যা সড়কের তিন কিলোমিটার পর্যন্ত ফাটল দেখা দেওয়ায় ওই রুটে যানবাহল বন্ধ রয়েছে। রাজস্থলী উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ির অরুণোদয় পয়েন্টের সীমান্ত সড়কে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে।এ ছাড়া রাঙামাটি শহরের এডিসি হিলে, পুরাতন লাইন, নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার-সংলগ্ন পাশের গলি, শিমুলতলী, কাউখালী উপজেলাসহ ১২৮টি ছোট বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে সম্পত্তি ও ঘরবাড়ি ক্ষয়ক্ষতি হলেও কেউই হতাহত হয়নি। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, ১০০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ২৬৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন গত বুধবার রাতে শহরের লোকনাথ মন্দিরের আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। এ সময় সাংবাকিদের তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় তিন পার্বত্য জেলায় এক হাজার ৩০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা না পাওয়া পর্ষন্ত আশ্রয়গ্রহণকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার অনুরোধ জানিয়েছেন।আটকে পড়া ৫৬১ জন পর্যটকের মধ্যে ১৫০ জন বৃহস্পতিবার দুপুরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ত্যাগ করেছেন। তাদের খাগড়াছড়িতে নেওয়া হয়েছে।

সাতকানিয়ায় পানিতে নিখোঁজ ১

চট্টগ্রামে সাতকানিয়ায় বৃহস্পতিবার ভোরে সাঙ্গু নদীতে লাকড়ি কুড়াতে গিয়ে আবদুল আলম (৩৬) নামে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়ন এলাকার এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন।কালিয়াইশ ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ আহমেদ বলেন, আবদুল আলম একজন রিকশাচালক। তিনি এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে নৌকায় করে সাঙ্গু নদী থেকে লাকড়ি কুড়াতে গিয়ে পানিতে পড়ে যান। এখনও তাঁর খোঁজ মেলেনি। তিনি এ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাইঙ্গাপাড়া এলাকা বাসিন্দা। চট্টগ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। বিভিন্ন উপজেলার অনেক এলাকা বিদ্যুৎহীন রয়েছে। চট্টগ্রাম-রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক সড়কের বড়দিঘিপাড় এলাকায় এখনও স্বাভাবিক হয়নি যান চলাচল। দুটি স্থানে কোমরপানির নিচে সড়ক। পানিতে ডুবে গেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী এলাকা। ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২৭১ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় এ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আঞ্চলিক মহাসড়ক পানিতে ডুবে থাকায় তিন দিন ধরে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সঙ্গে চট্টগ্রামের নিয়মিত বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।