→ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দু’দিন ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর→ রেকর্ড ১৬ লাখের বেশি খেলোয়াড়ের নিবন্ধন→ সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাই মারা গেছেন→ তিন মাসে ২৪ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে সরকার→ শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু কাল, আজ দেবীর বোধন
No icon

বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ

চীনের গুয়াংজুতে আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে ১৪০তম চায়না ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট ফেয়ার, যা ক্যান্টন ফেয়ার নামে পরিচিত। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই বাণিজ্য প্রদর্শনীতে বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্যও নতুন ক্রেতা খোঁজা, পণ্য সংগ্রহ, প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং দেশের পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করবে এ আয়োজন।তবে চীনের বাজারে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সম্ভাবনা কেবল সেখান থেকে পণ্য আমদানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, জুতা, হিমায়িত সামুদ্রিক খাবারসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে। এ জন্য চীনা ক্রেতাদের চাহিদা, পণ্যের মান, মূল্য, প্যাকেজিং ও সরবরাহব্যবস্থা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় কুয়াংতোং প্রদেশের গুয়াংজু শহরে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এবারের ক্যান্টন ফেয়ার। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও কুয়াংতোং প্রাদেশিক সরকারের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তিনি মূল বক্তব্য দেবেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন।১৯৫৭ সালে শুরু হওয়া এ মেলার এবারের আসরের প্রদর্শনী এলাকা প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ বর্গমিটার। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৩টি পণ্যশ্রেণির অধীনে ৫৪টি প্রদর্শনী বিভাগে পণ্য প্রদর্শিত হবে। এবারের মেলায় তিন হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের অংশ নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।প্রথম পর্ব চলবে ১৫ থেকে ১৯ অক্টোবর।

এতে বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি, কৃষিযন্ত্র, স্মার্ট উৎপাদন প্রযুক্তি, নতুন জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রদর্শিত হবে। শিল্পের কাঁচামাল, উৎপাদন যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি সংগ্রহে আগ্রহী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য এ পর্বটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।দ্বিতীয় পর্ব ২৩ থেকে ২৭ অক্টোবর। এতে আসবাব, নির্মাণ ও গৃহসজ্জার উপকরণ, রান্নাঘরের সামগ্রী, সিরামিক, কাচের পণ্য, উপহারসামগ্রী এবং ঘর সাজানোর বিভিন্ন  পণ্য থাকবে।তৃতীয় পর্ব চলবে ৩১ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর। এতে পোশাক, বস্ত্র, জুতা, ব্যাগ, খেলনা, শিশুপণ্য, স্বাস্থ্যসামগ্রী, চিকিৎসা সরঞ্জাম, খাদ্য এবং অবসর ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট পণ্য প্রদর্শিত হবে। বাংলাদেশের পোশাক, চামড়া, পাটজাত পণ্য ও খাদ্যপণ্যের ব্যবসায়ীদের জন্য এ পর্বে ক্রেতা ও বাজারের চাহিদা যাচাইয়ের সুযোগ থাকতে পারে।চীনা দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। এ সময়ে বাণিজ্য বাড়লেও বাংলাদেশের জন্য রপ্তানি বৃদ্ধি ও বাণিজ্য ব্যবধান কমানোর চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।চীনের বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়াতে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ নিয়েও কাজ চলছে। চীনা দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের তাজা আম ও কাঁঠাল চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। পেয়ারা ও সুগন্ধি চালের বাজার প্রবেশাধিকার নিয়েও উদ্যোগ চলছে। ফলে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনাও ক্যান্টন ফেয়ারের মতো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্ল্যাটফর্মে গুরুত্ব পেতে পারে।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল পান্না অন্যান্য বছরের মতো এবারও ক্যান্টন ফেয়ারে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবসায় টিকে থাকতে নিজেদের হালনাগাদ রাখা, পণ্যের গুণগত মান ও প্রতিযোগিতামূলক দাম নিশ্চিত করার পাশাপাশি সোর্সিং এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরি করা জরুরি। ক্যান্টন ফেয়ার দেশি-বিদেশি ও প্রবাসী ব্যবসায়ীদের এসব সুযোগ এক জায়গায় এনে দেয়।এই পরিচালকের ভাষ্য, ব্যবসায়ীরা এখানে নতুন পণ্য সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের পণ্যের জন্য সম্ভাব্য ক্রেতা খুঁজতে পারেন। এ ছাড়া নতুন উদ্যোক্তাদের জন্যও এই মেলাটি গুরুত্বপূর্ণ।তিনি আরও বলেন, চীনের বিশাল উৎপাদন সক্ষমতা দেশটির বাজারকে যেমন আকর্ষণীয় করেছে, তেমনি সেখানে প্রতিযোগিতাও তীব্র। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা পণ্য কেনার ক্ষেত্রে শুধু দাম নয়, গুণগত মান, পণ্যের বৈচিত্র্য, সরবরাহের ধারাবাহিকতা, সময়মতো চালান পৌঁছানো এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণের সক্ষমতাও বিবেচনা করেন। এ কারণে ক্যান্টন ফেয়ারে অংশ নেওয়া মানেই রপ্তানি আদেশ পাওয়া নয়।