দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা কাটিয়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে সক্রিয় করার নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, সাংগঠনিক স্থবিরতা, তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত কাঠামো ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী বছরের শুরুতে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি, পর্যায়ক্রমে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নতুন কমিটি গঠন, কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন এবং বিতর্কিত বা অপকর্মে জড়িত নেতাদের বাদ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তে এগোচ্ছে দলটি। বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিগগিরই স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি ঘোষণার পাশাপাশি অন্য মেয়াদোত্তীর্ণ সংগঠনের নেতৃত্ব পুনর্গঠনেরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, সরকার গঠনের পর দলের নেতাকর্মীরা কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছেন। দলের বড় কোনো কর্মসূচি না থাকায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও গতি কমেছে। অনেক নেতাকর্মী রাজনীতিবিমুখ অবস্থায় রয়েছেন। এ অবস্থায় সংগঠনকে আগের মতো শক্তিশালী অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে সাংগঠনিক দুর্বলতা কিছু আছে; যা কাটিয়ে দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির অভিভাবক তারেক রহমান। তিনি বলেন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন তাই থানা ও ওয়ার্ড কমিটিতে যেসব দুর্বলতা আছে, সেগুলোও খুঁজে বের করে সমাধান করতে বলেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কাউন্সিলের মাধ্যমে করার বিষয়ে মনোযোগী হতে বলেছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্র বলছে, সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় তারেক রহমান দলের সাংগঠনিক বিষয়ে আগের মতো সময় দিতে পারেননি। তবে এখন তিনি নিয়মিতভাবে দলীয় কার্যক্রমে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রতি সপ্তাহে সুযোগ অনুযায়ী অথবা মাসে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সবশেষ গত শনিবার রাতে ঢাকা জেলা বিএনপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। পর্যায়ক্রমে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ আরও কয়েকটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গেও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এমনকি পর্যায়ক্রমে সারাদেশের অন্য মহানগর ও জেলার সঙ্গেও বৈঠক করবেন। দলকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে এসব বৈঠকে মূলত তিনি সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সাংগঠনিক অবস্থা, অভ্যন্তরীণ সমস্যা, কমিটি সংক্রান্ত জটিলতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে নেতাদের কাছ থেকে জানতে চাচ্ছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় বেশ কয়েক নেতার ভাষ্য, সরকার পরিচালনার ব্যস্ততার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় কর্মকাণ্ডে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, স্থবিরতা কাটিয়ে সংগঠনকে নির্বাচনীভাবে প্রস্তুত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ কোন্দল কমিয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলতেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান।বৈঠকের বিষয়ে ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক বলেন, আমি বৈঠকে ছিলাম না; দুই একদিনের মধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করব। শুনেছি সেখানে তিনি নেতাদের আরও সক্রিয় হওয়ার, নিয়মিত বৈঠক করার এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো, দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন।