ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনশন, হাসপাতালে সোনম ওয়াংচুকভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়ালশীর্ষ ১০ ব্যয়বহুল শহরের তালিকা থেকে বাদ পড়ল দুবাইইরানে বিমানবন্দর ও সেতুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিহত ৮বাড়তে পারে মন্ত্রিসভার আকার, আলোচনায় দেড় ডজন নাম
No icon

নিট-ইউজি ২০২৬: জম্মু-কাশ্মীরে শীর্ষে হাদিয়া নিসার

সব বাধা-বিপত্তি আর মানসিক চাপ জয় করে সাফল্যের এক অনন্য নজির গড়লেন দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগের মুসলিম তরুণী হাদিয়া নিসার। সর্বভারতীয় স্তরের কঠিনতম পরীক্ষা 'নিট-ইউজি'তে (২০২৬) ৯৯.৯৯৩১ পার্সেন্টাইল স্কোর নিয়ে দেশজুড়ে ৯৯তম র‍্যাংক (এআইআর ৯৯) অর্জন করেছেন তিনি। একই সাথে জম্মু ও কাশ্মীরের সামগ্রিক মেধা তালিকায় শীর্ষস্থান অধিকার করে উপত্যকার সেরা টপার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন এই প্রতিভাবান শিক্ষার্থী।

প্রশ্ন ফাঁসের বিতর্ক, পরীক্ষা বাতিল এবং পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার মতো তীব্র মানসিক চাপের মুখেও নিজেকে ভেঙে পড়তে দেননি হাদিয়া। নেতিবাচক চিন্তা আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মোহাচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রেখে এই ঐতিহাসিক সাফল্য ছিনিয়ে এনেছেন তিনি।

দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের পর প্রথম পরীক্ষা বাতিল হলে ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর মতো হাদিয়ার মনোবলও বড় ধাক্কা খেয়েছিল। হাদিয়ার বাবা নিসার আহমেদ জানান, প্রথম পরীক্ষায় প্রায় ৭১০ নম্বর পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল হাদিয়ার। পরীক্ষা বাতিলের পর পুনরায় মনোযোগ ফেরানো ছিল এক চরম পরীক্ষা।
এই কঠিন সময়ে হাদিয়ার প্রধান শক্তি ছিল তাঁর পরিবার। হাদিয়া বলেন, "আমার বাবা-মা সবসময় আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন এবং মানসিকভাবে চাঙ্গা রেখেছেন। তাঁদের অবিচল সমর্থনের কারণেই আমি কঠিন পরিস্থিতিতেও হাল ছাড়িনি এবং এগিয়ে গেছি।"

.আজকের যুগের তরুণ সমাজ যখন মোবাইল স্ক্রিন আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বুঁদ হয়ে থাকে, হাদিয়া সেখানে হেঁটেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে। নিজের স্মার্টফোনে কোনো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ না রাখার কঠোর সিদ্ধান্তই তাঁকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে দেয়নি।

পড়াশোনার কৌশল সম্পর্কে হাদিয়া জানান, তিনি কোনো কঠোর রুটিনে নিজেকে বেঁধে রাখেননি। বরং নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম সামনে রেখে দৈনিক লক্ষ্য অর্জনের ওপর জোর দিয়েছিলেন। নিজের মেধার পাশাপাশি তিনি তাঁর শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও নিজের কঠোর পরিশ্রমকে এই সাফল্যের চাবিকাঠি বলে মনে করেন।
হাদিয়া নিসার এবং সারা ভারতে ১২৪তম স্থান অর্জনকারী জাইদান ওয়ানির এই অসামান্য সাফল্যে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ। এক বার্তায় তিনি বলেন, এই অর্জন তাদের দৃঢ় সংকল্প, কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবার ও শিক্ষকদের অবিচল সমর্থনেরই প্রতিফলন।

কেবল হাদিয়াই নন, ভারতের অন্যান্য প্রান্তের সফল শিক্ষার্থীরাও এই পরীক্ষায় দেখিয়েছেন অভাবনীয় সাফল্য। জয়পুরের উপলক্ষ্য গোয়েল ৭২০ নম্বরের মধ্যে ৭১১ পেয়ে অল ইন্ডিয়া র‍্যাংক ৩ (সর্বভারতীয় ৩য় স্থান) অর্জন করেছেন। তিনি জানান, চিকিৎসকের হওয়ার শৈশবকালীন স্বপ্নপূরণের জন্য তিনি দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন।

ছত্তিশগড়ের রাজ্য টপার শিপরাক গোয়েল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়ে বলেন, সাফল্যের আসল চাবিকাঠি হলো ধারাবাহিকতা, ঘুমহীন রাত বা না খেয়ে পাগলের মতো পড়া নয়।এদিকে, 'ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি'র (এনটিএ) তথ্য অনুযায়ী, নিট ইউজি ২০২৬-এ আন্ডারগ্রাজুয়েট মেডিকেল, ডেন্টাল, আয়ুশ এবং অন্যান্য সমগোত্রীয় কোর্সে ভর্তির জন্য ১১.২১ লাখ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

গত ২১ জুন ভারতের ৫৫১টি শহর এবং বিদেশের ১৪টি শহরের ৫,৪৪০টি কেন্দ্রে ১৩টি ভাষায় অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। প্রশ্ন ফাঁসের বিতর্কের কারণে গত ২১ জুনের পুনঃপরীক্ষাটি অত্যন্ত কঠোর নজরদারিতে নেওয়া হয়েছিল। তবে সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে কাউন্সেলিং ও ভর্তি প্রক্রিয়া সময়মতো শুরু করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ফলাফল প্রকাশ করেছে এনটিএ।

সাফল্যের এই আলোড়ন তৈরি করে হাদিয়া নিসার এখন ভবিষ্যতের চিকিৎসাপ্রত্যাশী কোটি শিক্ষার্থীর, বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের মেয়েদের জন্য এক জ্বলন্ত অনুপ্রেরণা। অনুজদের উদ্দেশ্যে হাদিয়ার শেষ বার্তা—"যাঁরা এবার সফল হতে পারোনি, তারা নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখো। প্রত্যেকের পথচলা আলাদা ও অনন্য। আত্মবিশ্বাসই তোমাদের বহুদূর নিয়ে যাবে।"