সাতক্ষীরা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ইউনিট সভাপতি-সভানেত্রী সম্মেলন যেখানে জুলুম-চাঁদাবাজি, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন যেখানে জুলুম-চাঁদাবাজি, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে, শ্রমিকরা ন্যায়, ইনসাফ ও দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে কখনো পিছপা হবে না। তিনি দাবি করেন, বৈষম্যবিরোধী জুলাই আন্দোলনে দুই নারী শ্রমিকসহ তিন শতাধিক শ্রমিক শহীদ হলেও তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এখনো হয়নি। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে সাতক্ষীরার মরহুম কাজী শামসুর রহমান মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের সভাপতি-সভানেত্রী সম্মেলন-২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, জুলাই-পরবর্তী সংস্কার কার্যক্রমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুপারিশ এলেও দেশের সাড়ে সাত কোটি শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো সুপারিশ করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, নতুন সরকারের বাজেটেও শ্রমিকবান্ধব নীতি, ন্যায্য মজুরি, রেশনিং ব্যবস্থা ও দুর্দিনে সামাজিক নিরাপত্তার মতো দাবিগুলো উপেক্ষিত হয়েছে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শ্রমিকরা কোনো করুণা বা কার্ড নয়, রাষ্ট্রের কাছ থেকে ন্যায্য মজুরি ও সাংবিধানিক অধিকার চান। রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে শ্রমিকের সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব। শ্রমিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রিত কিছু শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে স্ট্যান্ড, টার্মিনাল ও বিভিন্ন খাতে দখলদারিত্ব এবং চাঁদাবাজির সংস্কৃতি চালু করেছে। জুলাই-পরবর্তী সময়েও সেই প্রবণতা নতুন রূপে অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনকে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও সর্বাধিক ট্রেড ইউনিয়নের সংগঠন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আদর্শ, সততা ও ইনসাফের রাজনীতি ধারণ করায় অতীতে সংগঠনটি নানা নির্যাতন ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে। তবুও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যেখানে জুলুম, চাঁদাবাজি ও অন্যায় হবে, সেখানেই শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। বাস টার্মিনাল, সিএনজি ও রিকশা স্ট্যান্ড, শিল্প-কারখানা কিংবা নির্মাণ খাত—কোথাও অবৈধ নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি বা শ্রমিক নিপীড়ন মেনে নেওয়া হবে না। আমরা নিজেরা অন্যায় করব না, অন্যায় সহ্যও করব না।” তিনি আরও বলেন, শ্রমিক সংগঠনের নামে শ্রমিকদের জিম্মি করে চাঁদাবাজির রাজনীতি আর চলতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের শ্রম খাতকে দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও নিপীড়নমুক্ত না করা পর্যন্ত বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আপসহীন আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সম্মেলনে সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি অধ্যাপক গাজী সুজাত আলীর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন মহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম এবং জেলা প্রধান উপদেষ্টা উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল।