ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনশন, হাসপাতালে সোনম ওয়াংচুকভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়ালশীর্ষ ১০ ব্যয়বহুল শহরের তালিকা থেকে বাদ পড়ল দুবাইইরানে বিমানবন্দর ও সেতুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিহত ৮বাড়তে পারে মন্ত্রিসভার আকার, আলোচনায় দেড় ডজন নাম
No icon

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ১১ বছর বয়সী এক মুসলিম কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় বিজেপি সরকারের নীরবতার অভিযোগে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পরও সরকারের কার্যকর অবস্থান না থাকায় বিভিন্ন দেশের অন্তত ৩০টি নারীবাদী, মুসলিম ও বর্ণবৈষম্যবিরোধী প্রবাসী সংগঠন যৌথ বিবৃতিতে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিরপেক্ষ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্তের দাবি তুলেছে।

মাকতুব-এর কাছে পাঠানো ওই যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো জানায়, ভারতে নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান যৌন সহিংসতার ঘটনায় সরকারের নীরবতা গভীর উদ্বেগের বিষয়। তাদের ভাষায়, সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ভুক্তভোগীদের প্রতি অবিচার এবং দোষীদের জন্য দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করছে।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর গত দুই মাসে নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে অন্তত আটটি গুরুতর সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বারুইপুরের ঘটনা, যেখানে বন্ধুর জন্মদিনের উপহার কিনতে বের হওয়া ১১ বছর বয়সী এক মুসলিম কিশোরী অপহরণের শিকার হয়। পরে তাকে অমানবিক নির্যাতন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর বস্তাবন্দি করে একটি পুকুরে ফেলে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের করা নিখোঁজ ডায়েরির একদিন পর গত ৫ জুলাই তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে যৌন নির্যাতনের আলামত, মাথায় আঘাত এবং  পানিতে ডুবে মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ, সহিংসতা এবং মামলার সন্দেহভাজন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী প্রবাস মণ্ডলের পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঘটনার সঙ্গে এক বিজেপি নেতার সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেছিলেন। এরপর তার মৃত্যু নিয়ে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষার অভিযোগ ওঠে।

যৌথ বিবৃতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যেরও সমালোচনা করা হয়েছে। সংগঠনগুলোর অভিযোগ, তিনি এ ঘটনার প্রতিবাদকে সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করে ঘটনাটির গুরুত্ব ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, একই সপ্তাহে রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে একাধিক ব্যক্তির সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ সামনে আসে। সংগঠনগুলোর মতে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এসব ঘটনা বাস্তব পরিস্থিতির সামান্য অংশমাত্র; অসংখ্য যৌন সহিংসতার ঘটনা কখনো প্রকাশই পায় না।

সাউথ এশিয়া সলিডারিটি গ্রুপ, হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস ইউকে এবং ইউকে ইন্ডিয়ান মুসলিম কাউন্সিলসহ বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠন দাবি করেছে, বিশেষ করে মুসলিম ও নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা এ পরিস্থিতিকে ভারতের সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিবৃতিতে ভুক্তভোগী ও নিহতদের পরিবারের প্রতি সংহতি জানিয়ে বারুইপুরের কিশোরীর ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত, মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর মৃত্যুর স্বাধীন তদন্ত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

সূত্র : মাকতূব মিডিয়া।